আমার বাবা, পরিবারে ভালোবাসা, জঙ্গীবাদ এবং বর্তমান বিশ্ব

বাংলা

সারা পৃথিবীতে চরমপন্থা, জঙ্গীবাদ কারনে শতশত নিরীহ মানুষের প্রানহানি ঘটছে। এটি মানবতার উপর ভয়াবহতম হুমকি। কথায় কথায় মানুষ ধর্মকে দোহাই দিচ্ছে। বলছে ধর্মশিক্ষায় উগ্র্র জঙ্গী তৈরী করছে। তারেক মাসুদ এর্ একটি সিনেমা, 'রানওয়ে'তে খুব সুন্দরভাবে বিষয়টিকে দেখানো হয়েছে। পারিবারিক মূল্যবোধ, ভালোবাসার অভাব, রাষ্ট্রীয় কুশিক্ষা আর নেতৃত্বে ভালো মডেলের অভাব সমাজে অস্হিরতা তৈরী করে। দু'যুবক পারিবারিক মূল্যবোধ বা ভালোবাসায় বা এর অভাবে দু'ধরনের অবস্থান নেয়। ব্যক্তিগত জীবনে আমি এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি অনেকবার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দু'দশক আমার নানা অভিজ্ঞতায় পূর্ন।  বিশ্ববিদ্যালয় হলে, নটরডেম কলেজ কিংবা ঢাকা শহরে আমার একলা জীবনে ধর্মীয় গোঁড়ামী, নেশা, সন্ত্রাস কিংবা অসামাজিক সম্পর্কের প্রত্যক্ষদর্শী হয়েছি অনেকবার। অনেকের মতো দু'একটা নিরাপদ দুরত্ব রেখে পরখও করেছি। । কিন্তু ধ্বাংসত্বক বিষয়গুলো থেকে আমাকে নিরাপদ রেখেছে আমার বাবা মুখোচ্ছবি বা উনার ভালোবাসায় পূর্ন সংস্পর্শ। উনি আমাকে নিয়ে কোনোদিন পড়ার  টেবিলে বসান নাই, ধর্মবিষয়ে বড় জ্ঞান দেন নাই । মাঝে মাঝে উনার স্বভাবসূলভ উচ্চ স্বরে কথা বলে কিছু জিনিস বোঝাতেন। জীবনে কোনদিন গায়ে হাত তোলেননি। আমার প্রায় ৩৭ বছর সময়ে দুজনের দুবার কিছুটা কঠোর মনোমালিন্য হয়েছে, এরপর দুজনকেই কাদঁতে হয়েছে। কোনদিন মুখ ফোটে বলেননি তুই আমার আদরের সন্তান, সোনামনি। এসবের মাঝে উনি আমাকে যেটা দিয়েছেন, সুগভীর ভালোবাসা।  এ ভালোবাসার কারনে পৃথিবীর যাবতীয় অন্ধকার দুরে সরে গিয়েছে, আলো এসেছে। গতবছর এই সময়ে আমি বলেছিলাম, উনি আমাকে ১৯৮২/৮৩ সালে(যখন আমি ক্লাস টু-থ্রির ছাত্র) আমার বায়না মেটাতে যাত্রা পালাার টিকেট কিনে দিয়েছেন। উনি দীর্ঘরাত বাইরে বসে অপেক্ষা করেছেন ছেলের বায়না মেটাতে। অনার্স তৃতীয় বর্ষে (১৯৯৬) কম্পিউটার  কেনার কথা বললে আমাকে বলেছিল একটা জমি বিক্রি করে দিয়ে কিনে দিবে। কারন ঐ সময় উনি অবসরে, আয় অনেক কম। আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার শিক্ষক প্রফেসর শরিফ স্যার একদিন ক্লাসে বলেছেন, তোমাদের বাবাদের বলো জমি দিয়ে লাভ হবেনা, কম্পিউটার কিনে দিতে। না বুঝলে আমি বোঝাবো। আমার বাবাকে বোঝাতে হয়নি। পরবতীতে উনার ভালোবাসায় আর পরামর্শে বিকল্প ব্যবস্থায় কম্পিউটার কেনার ব্যবস্থা করেছি। এধরনের অসংখ্য আলোকময় সম্পর্ক আমাদের ছিল। বর্তমানে আমি একজন বাবা, নিজকেসহ পৃথিবীর সকল বাবাদের এ আলো ছড়ানোর জন্য অনুরোধ করছি। আজ আমার বাবার মৃত্যু দিবস। দোয়া করবেন আমার দেখা শ্রেষ্ঠ মানুষটির জন্য। 

প্রতিহিংসা, অপ্রয়োজনীয় আলোচনা-সমালোচনা, অন্যের পিছনে মন্তব্য, অন্যের ক্ষতি করতে আমি উনাকে কখনো দেখি নাই। আমার দেখা অত্যন্ত মেধাবী টেকনিক্যাল ব্যক্তি এবং উদোক্তা। মেকানিক্যাল প্রযুক্তিতে প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন। উনি ধার্মীক ছিলেন, পবিত্র হজ্জ পালন করেছেেন। কিন্ত ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ী করতেননা। জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সফলতা নিয়ে কথা বলতেন, পরামর্শ দিতেন।  ৫০-৬০ বছর বয়সে বাড়ীর বাচ্চাদের সাথে কেরাম খেলাসহ নানাভাবে সম্পৃক্ত থাকতেন। শেষ বয়সেও প্রিয় টিভি চ্যানেল এনিমেল প্লানেট, স্পোর্টস এবং ডিসকোভারী দেখতেন।

 

 

 

 

Link: https://www.facebook.com/runway.film