বাংলাদেশে সবার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষা-সামাজিক প্রতিষ্ঠানটি গড়ছি

 English, 

এ প্রতিষ্ঠানটি ধনী-দরিদ্র সবার জন্য। যাদের আর্থিক অবস্থা দূর্বল তাদের জন্য এ প্রতিষ্ঠান দুটি কাজ করবে, তাদের আর্থিক অবস্থার সমাধানে বৃত্তির ব্যবস্থা করবে এবং তারা উন্নয়ন সহকারী (Development Assistant-DA) হিসেবে কলেজে নিযোগপ্রাপ্ত হয়ে কর্মদক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ঠদের জন্য যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ এবং উচ্চ শিক্ষার  (বিদেশে পিএইচডি করাসহ) ব্যবস্থা থাকবে। বিশেষ করে বিশেষ প্রয়োজনীয়তার মানুষদের জন্য (অনেকেই যাদের প্রতিবন্ধী বলে থাকে) এ প্রতিষ্ঠানে বিশেষ অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা থাকবে।

যখন আমি বৃটেনে পিএইচডি গবেষণায়, ২০০৯ সাল থেকে কাজ করছি দেশে শিক্ষা, প্রযুক্তি, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান স্থাপন করার। বিদেশের প্রতিটি ভালো কাজে যখন মুগ্ধ হতাম, তখনই মনে হতো আমার দেশে এরকম কিছু হলে কত ভালো হতো! আমরা ‘উন্নতবিশ্ব’ হতে পারতাম। সিআইসিটিআর এবং ক্রিয়েটিভ ইন্টারন্যাশনাল কলেজ উন্নত বিশ্বের কাছাকাছি যাওয়ার একটা চেষ্টা। আমার নটরডেম কলেজ এবং বিদেশে অভিজ্ঞতার মডেলে স্বপ্নের কলেজ গড়তে চাই, যেটি শিক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিবে এবং সফলতা এনে দিবে। ক্রিয়েটিভ একটি শিক্ষা, সামাজিক কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিভিত্তিক সেবা প্রদান করে থাকে ।সবার সফলতার জন্য ক্রিয়েটিভ এ ১৮টা প্রজেক্ট তৈরী করা হয়েছে। বিস্তারিত প্রোফাইল: www.cictr.org/profile আরো দেখা যাক, সহজ ভাষায় প্রতিষ্ঠানটি কেমন?

  • সবার জন্য: এ প্রতিষ্ঠানটি ধনী-দরিদ্র সবার জন্য। যাদের আর্থিক অবস্থা দূর্বল তাদের জন্য এ প্রতিষ্ঠান দুটি কাজ করবে, তাদের আর্থিক অবস্থার সমাধানে বৃত্তির ব্যবস্থা করবে এবং তারা উন্নয়ন সহকারী (Development Assistant-DA) হিসেবে কলেজে নিযোগপ্রাপ্ত হয়ে কর্মদক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ঠদের জন্য যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ এবং উচ্চ শিক্ষার  (বিদেশে পিএইচডি করাসহ) ব্যবস্থা থাকবে। বিশেষ করে বিশেষ প্রয়োজনীয়তার মানুষদের জন্য (অনেকেই যাদের প্রতিবন্ধী বলে থাকে) এ প্রতিষ্ঠানে বিশেষ অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা থাকবে।
  • প্রযুক্তি এবং সফলতার: কম্পিউটারসহ বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে (ড্রাইভিং, ইংরেজী শেখার) ক্লাশরুম/ল্যাব রাখা হবে। আমাদের মূল লক্ষ্যই ছাত্রদের জন্য দেশ-বিদেশে চাকুরীর নিশ্চিত সুযোগ তৈরী। বর্তমানে আমাদের ১০০ ছাত্রের মধ্যে ২-১ জন ভালো করে, জীবনে সফল হয়। এ অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব, আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি। বিগত ৫-৬ বছরে একটি জাতীয় এবং আন্তজার্তিক নেটওযার্ক তৈরী হয়েছে।
  • কর্মমূখী: এখানের ছাত্র থেকে প্রধান শিক্ষক, সবাই যাবতীয় কাজের জন্য তৈরী থাকবে, প্রয়োজন হলে শিক্ষক নিজে চা তৈরী করে অন্যদের খাওয়াবে। ৯টা-৬টা প্রচুর কাজ এবং পরিশ্রম করবে। দুপুরের খাবার (৩০মিনিট) এবং দু’বেলায় চায়ের (১৫ মিনিট করে ৩০ মিনিট)সময় ছাড়া অন্য সময় বিশ্রাম বা খোস গল্পের কোন সুযোগ থাকবেনা। এসব বিষয়কে ভেবে, বিদেশের মডেলে, আমি এখানে শিক্ষার পাশাপাশি ছাত্রদের কাজের সুযোগ করে দিবে এরকম সামাজিক  কর্মকান্ড চালু করব।
  • আনন্দময়: কর্মমূখী হলেও তা আনন্দময় করার ব্যবস্থা থাকবে। আমি বিদেশীদের সাথে কাজ করে জেনেছি এটা কিভাবে করাযায়, এ কাগজে বিস্তারিত বর্ননা সম্ভব নয় বলে দু:খিত।
  • সুস্থ, সামাজিক এবং সুন্দর পরিবেশ: সকল ছাত্র-শিক্ষকের শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতার ব্যবস্থা থাকবে। পরিবেশ যাতে নোংরা এবং অসামাজিক (গালমন্দ, রাগ, বসগিরি ইত্যাদি) না হয় সবাই মিলে সেদিকে নজর রাখা হবে এবং তা বর্জনের বিশেষ নিয়ম থাকবে। এখানে সকল ধর্মের ইবাদত/প্রার্থনা হবে। সু্স্থ বিনোদনের ব্যবস্থা থাকবে। ধর্মে, বর্ণে, সম্পদে, চাকুরীতে উঁচু-নীচুর কারনে কোনো পাথর্ক্য করা হবেনা। মানুষ সব সময় হাসিমূখে একে অপরকে সহযোগিতা করবে। আমাদের  অধিকাংশ শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে সামাজিক অংশগ্রহণ অত্যন্ত সীমিত, কিন্তু সিআইসিটিআর এর ক্যাম্পাসে সামাজিক অনুষ্ঠান, ইকো-ট্যুর, স্বাস্থ্য ক্লাব ইত্যাদির জন্য প্রকল্প এবং সুবিধাদি রয়েছে।

এ পথ অনেক কঠিন, আমি জানতাম। কাজটা ও অনেক বড়। কারন আমরা নটরডেম কলেজ এবং বিদেশে অভিজ্ঞতার মডেলে স্বপ্নের কলেজ বাংলাদেশে গড়তে চাই, যখন নানা রকম বাধা চারপাশে। অনেক দুর এগিয়েছি, কুমিল্লার ক্যাম্পাস শেষে, ফেনীতে ঢাকা- চট্রগ্রাম মহাসড়কের পাশেই ক্রিয়েটিভ শিক্ষা ও সামাজিক কমপ্লেক্স গডে উঠছে, যেখানে পুরো মডেলটি এক জায়গায় প্রদর্শিত হবে । তথাপি, আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ইত্যাদি কারনে কাজটি অনেক কঠিন মনে হচ্ছে।

কিন্তু অতীত সাফল্যের কারনে আত্ববিশ্বাস, অনেক মানুষের উৎসাহে এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। প্রতিষ্ঠানের সুনাম সারাদেশে এবং বিশ্বে ছড়াবে, এধরনের একটি প্রতিষ্ঠান করতে চাই। ফেনী, কুমিল্লা, ঢাকা এবং বৃটেন থেকে কিছু নিবেদিত প্রাণ  শিক্ষা ও সমাজসেবক কাজ শুরু করেছে। আমার বন্ধু-বান্ধব, পরিবারের লোকজন পরিশ্রম এবং সহযোগিতা করছে।  প্রয়োজন উপরের বাধাগুলো দুরকরার মানসিকতা সম্পন্ন আরো লোকবল। এটি আমাদের স্বপ্ন এবং এজন্য আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুত । আপনি যদি সেরকম একজন (সমাজসেবক, শিক্ষক, অন্যান্য সহায়তাকারী) হোন, চিন্তা-ভাবনা করুন এবং কিভাবে সহায়তা করবেন একটি কাগজে লিখুন। আমাদের সাথে যোগাযোগ (ফোন-০১৬১১০০০৬৫৪, ইমেইল: monirb@live.com) করতে পারেন। আপনার কাজের যোগ্য সম্মান দেয়া হবে। আপনাকে নিয়ে আলোচনা করে কাজটি আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক শিক্ষা-সামাজিক প্রতিষ্ঠানটি গড়ব, ইনশাল্লাহ।

-ড: মনিরুজ্জামান ভুঞা (নান্নু), সহকারী অধ্যাপক, আইটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রতিষ্ঠাতা: ক্রিয়েটিভ কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি এবং গবেষণা ইন্সটিটিউট (সিআইসিটিআর), ক্রিয়েটিভ ইন্টারন্যাশন্যাল কলেজ।

ফাইল ডাউনলোড লিন্ক | যেসব বাধা পেয়েছি

English